গজারিয়া ( মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন-এর ৫ নং ওয়ার্ডের কদমতলী গ্রামে গোরস্থান ও কৃষিজমিতে পৌঁছানোর মানুষের একমাত্র ভরসা একটি জরাজীর্ণ কাঠের সাঁকো। প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হন। বিশেষ করে মৃত ব্যক্তিকে দাফনের জন্য গোরস্থানে নেওয়ার সময় স্বজনদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সাঁকোটি সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। একটু বৃষ্টি হলেই পিচ্ছিল হয়ে যায় কাঠের তক্তাগুলো। ফলে হুমকির মুখে পড়ে সাধারণ মানুষের চলাচল। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন পথচারী সাঁকো পার হতে গিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
শিশু-কিশোররাও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই পথেই যাতায়াত করে, যার কারণে খেলাধুলা ও স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, তাদের চাষাবাদের জমিতে যেতে এই সাঁকোই একমাত্র পথ। ভারী মালামাল নিয়ে চলাচল তো দূরের কথা—মানুষই ঠিকমতো উঠতে পারেন না। স্থানীয় বিক্রেতা ও দিনমজুরদেরও একই অভিযোগ; দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ দেখেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।
ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও সমাধানের কোনো আশ্বাস পাননি স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো সংস্কারের পরিবর্তে দ্রুত একটি স্থায়ী ব্রীজ বা কালভার্ট নির্মাণ করা প্রয়োজন।
কদমতলী গোরস্থান কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন,“এই সাঁকো দিয়েই আমাদের গোরস্থানে যাতায়াত করতে হয়। বৃষ্টি হলে বা রাতে মৃত ব্যক্তিকে দাফনের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কয়েকজন মানুষ মিলে নিচে ধরে ধরে মরদেহ পার করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত একটি কালবাট নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
গোরস্থান কমিটির সভাপতি সোহেল মিয়া বলেন,
“এটি শুধু একটি গ্রামের সমস্যা নয়—এটি মানবিক বিষয়। শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ সবাই এই সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। আমরা বহুবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এখন আর অস্থায়ী সংস্কার নয়, স্থায়ী সমাধান হিসেবে একটি ব্রীজ বা কালভার্ট জরুরি।”
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের আকুতি—প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে কদমতলী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হোক।
স্থানীয়দের মতে, একটি পাকা ব্রীজ শুধু যাতায়াত সহজ করবে না, বরং শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী—সব শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। বহুদিনের এ দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আশায় প্রতিদিনই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পাড়ি দিচ্ছেন গ্রামবাসী।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুর করিম জানান, আমরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি, আগামী অর্থ বছরে চেষ্টা করে দেখবো ।